কমান্ডার লুকের অফিস থেকে বেরতেই তেজোর মুখোমুখি হয় শেখ আব্বাস। মুখে সেই স্বভাবসুলভ হাসি, আর স্যালুট। অতিপরিচিত বন্ধুর মতো উচ্ছ্বাস দেখিয়ে মেস অবধি ধাওয়া করে আসায় ঠাণ্ডা পানীয় সহ সামান্য বাতচিতে বাধ্য হয় তেজো।
“আজকাল আমার চেয়ে আমার মা-কেই বেশি ভালবাসছেন দেখছি। আপনার দোষ নেই, ওনার রান্না খেয়েই সবাই প্রেমে পড়ে যায়! মাকলুবে, কেবাব, লিবা, দোলমা - কী নেই ওঁর হাতে! আমার কাছে শুধুই খেজুর। তবে চান তো মটরবাইকে চাপিয়ে মরুভূমির সাফারিতে নিয়ে যেতে পারি।”
“ওফরার চেয়ে আপনার বোনের সঙ্গেই দেখা হয় বেশি।” শান্ত গলায় বলে তেজো, ফাঁকা মেসে ওরা ছাড়া তৃতীয় প্রাণী বলতে একটা ভনভনে মাছি।
“বোন!” অবাক শোনায় আব্বাসকে। “আমরা কেবল তিন ভাই। বড়দা আমেরিকায় থাকে, ওয়াশিংটনে রেস্তোরাঁর মালিক। ছোড়দা বেরুটে শ্বশুরের ব্যাবসা সামলাচ্ছে আর আমি - আপনার একান্ত অনুগত। আল্লাহর দয়ায় এখনও বেঁচে আছি আমরা তিনজনই। যুদ্ধ থামলে বাগদাদে গাড়ির গ্যারাজ খুলব ফ্যামিলির সবাইকে নিয়ে।”
“আর আপনার মা যাকে মেয়ে বলে ডাকেন?”
“ও!” একটু চুপ করে থাকে আব্বাস। “বোন না, কর্মচারী বলুন। আসলে আমাদের আরবদের মন এরকমই উদার। সব্বাইকে আমরা কাছে টেনে নি। অপরিচিতকে ভাই, মেয়ে বা বন্ধু বানিয়ে নিতে সময় লাগে না। এটাই বোঝাতে চাইছিলাম আপনাদের কমান্ডারকে। আব্বাসকে ক্যাম্পের সাপ্লায়ার ভাবছেন কেন, বন্ধু ভাবুন না! মিছিমিছি সন্দেহ না করে পার্টনার বানিয়ে নিন।”
Write a comment ...