আলফা কম্পানির সঙ্গে দিনকতক কাটিয়েই হাঁপিয়ে ওঠে তেজো। যতক্ষণ অ্যাকশন ততক্ষণ মেরিনদের মতো ব্যাস্ত রিপোর্টাররাও। নইলে মরুভূমির ভেতর ক্যাম্পে আটক বোরিং জীবন। মজা পেতে হলে মেসে গিয়ে মদ গেলা নয়তো ব্রিজ খেলা। বড়জোর কে কবে মরতে মরতে বেঁচে গিয়েছিল সেই নিয়ে আষাঢ়ে গল্প। বয়স কম যাদের তারা একত্র হলে জুয়ার আসর বসবে। কার টিম এই মরসুমে চাম্পিয়ান হবে থেকে শুরু করে কে ইরাক থেকে বেঁচে ফিরবে আর কেই বা এখানেই দেহ রাখবে জাতীয় যতসব আজেবাজে বেট।
“সারাক্ষণ যুদ্ধ যুদ্ধ করে কী মজা পাও বলতো?” তেজোর বিরক্ত লাগে। “এতই যদি আহ্লাদ তবে মেরিন কোরে যোগ দিলেই পারো।”
জুয়ার টেবিল থেকে মাথা না তুলেই ওর সঙ্গে টক্কর দেয় ব্রুস, “যুদ্ধ না হলে খাবো কী? বন্যা, ভূমিকম্প, মহামারী, দুর্ভিক্ষ পাবলিক আর খাচ্ছে না। ভাগ্যিস হলিউডে আর ওয়ার ফিল্ম বানানোর রেওয়াজ নেই, নইলে আসল যুদ্ধ আর কেউ দেখত না!”
আরও দু-পাঁচটা কথা শোনাবার ইচ্ছে ছিল তেজোর, কিন্তু জুয়াড়িদের হাবভাব দেখে মনে হল যুক্তিতক্কে বিশেষ অভিরুচি নেই। “তোমার না পোষালে কেটে পড়ো,” ভাবখানা এই।
অকারণে চার্লির সঙ্গে ঝগড়া বাঁধিয়ে বসে। নাছোড়বান্দা ওর ক্যামেরাম্যান, কিছুতেই বুলেট প্রুফ জ্যাকেট পরবে না। এতে নাকি ওর অসুবিধে। ক্যামেরা ঘাড়ে যত্রতত্র সেঁধানো অসম্ভব। সাড়ে ছ-ফুট লম্বা মানুষকে যে অন্যদের তুলনায় বেশি সতর্ক হতে হয়, এই সাধারণ সত্যটুকু চার্লিকে বোঝানো অসম্ভব। ওকে ভালবাসে বলেই নয়, ওকে সুরক্ষিত রাখা তেজোর প্রফেশনাল দায়িত্ব। আর কেউ চোখে না পড়ুক, স্নাইপারের নজরে পড়বেই চার্লি। সুইসাইড বমবারেরও।
“মরার হলে মরবই, তুমি ইন্ডিয়ান হয়েও ডেস্টিনিতে বিশ্বাস করো না?”
Write a comment ...